ডাটা এন্ট্রি কি । ডাটা এন্ট্রি কিভাবে করে?

বন্ধুরা আজকে আমরা ডাটা এন্ট্রি কি বা ডাটা এন্ট্রি কাজটা কি? ডাটা এন্ট্রি কিভাবে করে বা ডাটা এন্ট্রির কাজ কিভাবে করতে হয়? এই জব গুলো কোথায় পাওয়া যায়? ডাটা এন্ট্রিতে কি কি ধরনের কাজ হয়? ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করব।

ডাটা-এন্ট্রি-কি-ভাবে-করতে-হয়

ফ্রিল্যান্সিং জগতে ডাটা এন্ট্রি কাজটি বহুল জনপ্রিয়। এই কাজটি এমন যে, যে কেও করতে পারে। মোটামুটি কম্পিউটার চালনা করতে পারলে এবং টাইপিং স্পীড ভালো হলে, সবাই এ কাজটি করতে পারে।

অনেকেই আছেন চাকরি বা পড়াশোনার পাশাপাশি এক্সট্রা অনলাইন ইনকাম করতে চান। তাদের জন্যে এই সেক্টরে ভালো সুযোগ আছে। ঘরে বসে অনলাইনে ইনকাম করার একটি সহজ উপায় হল ডাটা এন্ট্রি।

অনলাইনে ডাটা এন্ট্রির কাজ অনেক আগে থেকেই চলছে। বর্তমানে এই কাজের বেশ চাহিদা রয়েছে। তবে চাহিদা যেমন রয়েছে তেমন প্রতিযোগিতাও বেড়েছে। আর এই চাহিদার কারণে বর্তমানে মার্কেটপ্লেস ও তৈরি হয়েছে প্রচুর।

তাই নতুনরা একটু বুদ্ধি খাটিয়ে লো-কম্পিটিশন মার্কেটপ্লেস গুলোর দিকে নজর দিতে পারেন।

ডাটা এন্ট্রি কি
ডাটা এন্ট্রি কি?

Contents

ডাটা এন্ট্রি কি? ( WHAT IS DATA ENTRY )

ডেটা এন্ট্রি হল যেকোনো তথ্য ইনপুট বা তথ্য স্থানান্তরের প্রক্রিয়া। আমরা ডাটা এন্ট্রি কি ? এইটা আরেকটু সহজভাবে বিশ্লেষণ করে দেখি।
এটি এমন একটি প্রসেস, যার মাধ্যমে ডাটা এন্ট্রি অপারেটররা ডাটা বা তথ্য গুলোকে স্থানান্তর অথবা পরিবর্তন করে কম্পিউটারে ইনপুট দেয়। এটি হতে পারে কোন স্প্রেডশিট অথবা সফটওয়্যার এর মাধ্যমে।

একবার ডাটা এন্ট্রি হয়ে গেলে, তথ্যগুলো কম্পিউটার এবং সফ্টওয়্যার প্রোগ্রাম দ্বারা পাঠযোগ্য বা ব্যবহার উপযোগী হয়ে যায়। এবং এই তথ্যগুলো ডিজিটাল জগতের একটি অংশ হয়ে যায়। এতে করে তথ্যগুলো সুবিধা অনুযায়ী ডিজিটাল জগতে ব্যবহৃত হয়।

অনেকেরই ধারণা ডাটা এন্ট্রি মানে শুধু কিবোর্ডে টাইপিং করা। যুগের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল উন্নয়নের কারণে এই সেক্টরটি শুধু টাইপিং এর মধ্যেই এখন আর সীমাবদ্ধ নয়।

বর্তমান মার্কেটপ্লেস গুলোতে একটু রিসার্চ করলেই দেখতে পাবেন ডাটা এন্ট্রি কাজের ক্যাটাগরিতে প্রচুর ভিন্নতা রয়েছে। বর্তমানে এ কাজের মধ্যেও প্রচুর মেধা ও ক্রিয়েটিভিটির প্রয়োজন হয়।

কিভাবে কাজ করা যায় ডাটা এন্ট্রিতে
কিভাবে কাজ করা যায় ডাটা এন্ট্রিতে

কিভাবে কাজ করা যায় ডাটা এন্ট্রিতে ?

সাধারনত তিন ভাবে ডাটা এন্ট্রিতে কাজ করা যায়।

  • অনলাইন ডাটা এন্ট্রি ( Online Data Entry )
  • অফলাইন ডাটা এন্ট্রি ( Offline Data Entry )
  • অফিস বেইজড ডাটা এন্ট্রি ( Office Based Data Entry )

অনলাইন ডাটা এন্ট্রি ( Online Data Entry )

ইন্টারনেটের মাধ্যমে কোন সফটওয়্যার বা ওয়েবসাইটে তথ্য সংগ্রহ করে ইনপুট দেওয়াকে অনলাইন ডাটা এন্ট্রি বলা হয়। এইক্ষেত্রে সম্পূর্ণ কাজের প্রক্রিয়াটি ইন্টারনেটের মাধ্যমেই হয়ে থাকে।

সাধারণত এই ধরনের কাজ গুলো খুব ছোট ছোট হয়ে থাকে। এই কাজগুলো মাইক্রো জবস (Micro jobs) নামে পরিচিত। Captcha Typing, Survey, ইত্যাদি এই কাজের উদাহারন।

অফলাইন ডাটা এন্ট্রি ( Offline Data Entry )

অফলাইন ডেটা এন্ট্রি মানে ক্লায়েন্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ডাটা প্রসেসিং করা।
অর্থাৎ, এই ধরনের কাজ গুলো ক্লায়েন্ট আপনাকে একটি নির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়ে দেবে। এবং আপনাকে সেই নির্দেশনা মেনে চলে কাজটি সম্পন্ন করে জমা দিতে হবে। এতে আপনাকে কন্টিনিউয়াস অনলাইন থাকতে হবে না।

উদাহরণস্বরূপ, ক্লায়েন্ট আপনাকে কিছু ইমেজ বা পিডিএফ ফাইল দিল। যা দেখে দেখে আপনাকে টাইপ করতে হবে।
এই কাজটি করার জন্য আপনার অনলাইনে ইনপুট দেয়ার প্রয়োজন হয় না। আপনি অফলাইনে থেকে কাজটি শেষ করে জমা দিলেই হয়ে যায়।

অফিস বেইজড ডাটা এন্ট্রি ( Office Based Data Entry )

অফিস বেইজড ডাটা এন্ট্রি হচ্ছে সোজা কথায় নির্দিষ্ট কোন কোম্পানির অফিসে সরাসরি উপস্থিত থেকে ডাটা এন্ট্রি করা।
বাংলাদেশের অনেক কোম্পানি এবং সরকারি অনেক সেক্টর আছে যেখানে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর এর প্রয়োজন হয়। এইসব কোম্পানিতে চাইলে ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের চাকরি নিতে পারেন।

ফ্রীল্যান্স ডাটা এন্ট্রি বনাম অফিস বেইজড ডাটা এন্ট্রি পার্থক্য
ফ্রীল্যান্স ডাটা এন্ট্রি বনাম অফিস বেইজড ডাটা এন্ট্রি পার্থক্য

ফ্রীল্যান্স ডাটা এন্ট্রি বনাম অফিস বেইজড ডাটা এন্ট্রি

আমরা অনলাইন ফ্রীল্যান্স ডাটা এন্ট্রি এবং অফিস বেস্ট ডাটা এন্ট্রির কিছু পার্থক্য দেখে নিই।

ফ্রীল্যান্স ডাটা এন্ট্রি

ফ্রীল্যান্স ডাটা এন্ট্রিতে নির্দিষ্ট কোন স্যালারি নেই। এখানে ঘন্টা ভিত্তিক অথবা চুক্তিভিত্তিক কাজ হয়।

ফ্রিল্যান্সারদের যেহেতু নির্দিষ্ট সেলারি নেই, তাই যত বেশি কাজ সম্পন্ন করা যায়, ততোই ইনকাম বৃদ্ধি করা যায়।

যেহেতু ফ্রীল্যান্স ডাটা এন্ট্রি অপারেটররা অনেক ধরনের এবং অনেক কোম্পানির সাথে কাজ করে থাকে, তাই তাদের ক্রিয়েটিভিটি দেখানোরও সুযোগ থাকে। বিশেষ করে ওয়েব রিসার্চ টাইপের কাজগুলোতে।

ঘরে বসে বা যে কোন জায়গা থেকে কাজ করা যায়।

অফিস বেইজড ডাটা এন্ট্রি

এ ধরনের চাকরি গুলোতে বেতন বা স্যালারি নির্দিষ্ট পরিমাণের হয়ে থাকে।

এক্ষেত্রে সেলারি তেমন একটা বৃদ্ধি পায় না।

এখানে তেমন ক্রিয়েটিভিটি দেখানো বা ইনকাম বৃদ্ধি করার কোন সুযোগ থাকে না।

সাধারণত কোম্পানির নির্দিষ্ট যা সুযোগ-সুবিধা দেয়া থাকে সেগুলো শুধু মাত্র পাওয়া যায়। অনেক ক্ষেত্রে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর দের তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা কোম্পানি থেকে দেয়া হয় না।

ডাটা এন্ট্রিতে কি কি ধরনের কাজ হয়
ডাটা এন্ট্রিতে কি কি ধরনের কাজ হয়

ডাটা এন্ট্রিতে কি কি ধরনের কাজ হয়?

ডাটা এন্ট্রিতে মূলত টাইপিং এর কাজ হয়ে থাকে। তবে এই টাইপিং এর কাজের মধ্যেই ভিন্নতা রয়েছে। চলুন ডাটা এন্ট্রিতে কি কি ধরনের কাজ হয় এ সম্বন্ধে জেনে নেয়া যাক।

টেক্সট এন্ড ইমেজ ডাটা এন্ট্রি ( Text and image data entry )

টেক্সট এন্ড ইমেজ ডাটা এন্ট্রি হল কোন ইমেজ থেকে টেক্সট ভিত্তিক ফাইলে পরিণত করা। এই কাজ করার সময় ইমেজ ফাইলটি যেন পরিষ্কার বুঝা যায় সে ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে।

এই কাজ গুলো সাধারণত পিডিএফ (PDF) ফরম্যাটে দেয়া থাকে। তাই এ ক্ষেত্রে পিডিএফ কনভার্সন (PDF Conversion) করতে হয়।

ট্রান্সক্রিপশন সার্ভিস (Transcription services )

ট্রান্সক্রিপশন সার্ভিস হচ্ছে কোনো ভিডিও বা অডিও ফাইল থেকে টেক্সট-ভিত্তিক ফাইলে পরিণত করা। অর্থাৎ ট্রান্সক্রিপশন হল ফাইলের কথ্য অংশগুলি নেওয়া এবং সেগুলি লিখিত আকারে পরিণত করার প্রক্রিয়া।

ফর্ম এবং ইনভয়েস ডাটা এন্ট্রি ( Forms and Invoices data entry )

কোম্পানির কিছু ফর্ম এবং ইনভয়েস লিখিত আকারে পূরণ করা থাকে যা ইমেজ বা পিডিএফ ফরমেটে দেয়া হয়। এবং ডাটা এন্ট্রি অপারেটর এগুলো দেখে দেখে নির্দিষ্ট সফটওয়ারের মাধ্যমে ইনপুট দেয়।

বীমা দাবি ( Insurance claims )

বিমা সংস্থাগুলো প্রচুর পরিমাণে ডাটা নিয়ে কাজ করে। দ্রুত তথ্য যাচাই এবং সঠিক অর্থ প্রদানের জন্য তাদের ডাটাগুলো ডাটাবেসে সংরক্ষণ করার প্রয়োজন হয়। ডাটা এন্ট্রি জব হিসেবে ডাটা স্থানান্তরের কাজগুলো ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের দিয়ে করানো হয়।

জলবায়ু রেকর্ড এন্ট্রি ( Climate records entry )

বিজ্ঞানীরা যখন বিগত 100-150 বছর আগের জলবায়ুর উপর গবেষণা করেন, তখন তারা ভূতাত্ত্বিক রেকর্ডের মধ্যে সংরক্ষিত শারীরিক, রাসায়নিক এবং জৈবিক উপকরণ থেকে রেকর্ড ব্যবহার করে। তাই বিভিন্ন গবেষণা সংস্থা গুলো ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের দিয়ে এই ধরনের ডাটাগুলোকে নির্দিষ্ট সফটওয়ারের মাধ্যমে ইনপুট দেওয়ার কাজে ব্যবহার করে থাকে।

রিয়েল এস্টেট রেকর্ড এন্ট্রি ( Property records )

রিয়েল এস্টেট সংস্থাগুলি প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণ ডেটা নিয়ে কাজ করে। যেমন, প্রপার্টি লিস্টিং, রিয়েল এস্টেট ডাটাবেস ক্রিয়েশন, বায়ার এবং সেলারদের ইনফর্মেশন, রিয়েল এস্টেট ডকুমেন্টেশন, রিয়েল এস্টেট লিগ্যাল ডকুমেন্ট ফিলিং, ইত্যাদি আরো অনেক ধরনের কাজ করে থাকে। রিয়েল এস্টেট সেক্টরে ডাটা এন্ট্রি জব গুলো সাধারনত চুক্তি মেয়াদি হয়।

এই সেক্টরে একবার ভালো করে কাজ করে দিতে পারলে, তাদের সাথে মেয়াদ ভিত্তিক কাজ করা যায়।

ই-কমার্স ক্যাটালগ ডাটা এন্ট্রি ( Ecommerce catalog Data Entry )

ই-কমার্স কোম্পানিগুলোর নিত্যনতুন পণ্যের সংযোজন-বিয়োজন করার প্রয়োজন হয়। কোম্পানিগুলো ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের দিয়ে পণ্যের বিবরণ বা ছবি সংযুক্ত করন, ইত্যাদি রকমের কাজগুলো করিয়ে থাকে।

তাই এধরনের কাজগুলোর দ্বারা অনলাইনে ডাটা এন্ট্রি করে আয় করা খুব সহজ। তাই ডাটা এন্ট্রি শিখুন খুব ভালো করে।

অনুবাদ করন ( Translation services )

এই কাজটি করার জন্য একাধিক ভাষাগত জ্ঞান থাকতে হয়। বই-পুস্তক পাবলিকেশন কোম্পানিগুলো এ ধরনের কাজ বেশি করিয়ে থাকে।

তাই আপনার যদি একাধিক ভাষাগত জ্ঞান থেকে থাকে, তাহলে এই সমস্ত কোম্পানির সাথে সরাসরি যোগাযোগ করেও কাজ করা যায়।

লিড জেনারেশন ( Target customer list )

বর্তমানে ডাটা এন্ট্রি জব গুলোর মধ্যে লিড জেনারেশন অন্যতম। এই কাজটি সাধারণত ডিজিটাল মার্কেটিং এর জন্য বেশি ব্যবহৃত হয়।

কোম্পানিগুলো তাদের ব্যবসার প্রচার প্রচারণার জন্য তাদের সম্ভাব্য গ্রাহকের তালিকা তৈরি করে।

আর এই গ্রাহকের তালিকা তৈরি করার জন্য তারা অনলাইন মার্কেটপ্লেস থেকে ফ্রিল্যান্সারদের চুক্তিভিত্তিক হায়ার বা নিয়োগ করে।

রোগী এবং মেডিকেল রেকর্ড  ( Patient and medical records )

মেডিকেল কোম্পানিগুলোতে তাদের রোগী এবং রোগীদের বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষন করার প্রয়োজন হয়। এই তথ্যগুলো তারা অনেক ভাবে ব্যবহার করে থাকে। আবার ঔষধ গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য রোগীদের তথ্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

রোগীরা মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার সময় তাদের তথ্য কিছু নির্দিষ্ট ফরমে লিপিবদ্ধ করে থাকে। আর এই ফর্ম গুলো থেকেই কম্পিউটারে ইনপুট দেওয়ার প্রয়োজন হয়।

প্রতিনিয়ত রোগীদের তথ্য কম্পিউটারে ইনপুট দেওয়ার জন্য কোম্পানিগুলো ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের সাহায্য নিয়ে থাকে।

এছাড়াও এ খাতে আরো অনেক ধরনের কাজ হয়ে থাকে। যা এখানে এক আর্টিকেলে সব লিখতে গেলে আর্টিকেল অনেক বড় হয়ে যাবে।

তবে ডাটা এন্ট্রিতে কি কি ধরনের কাজ হয় তার একটি ধারণা আপনারা পেয়েছেন।

ডাটা এন্ট্রির কাজ কিভাবে করতে হয়
ডাটা এন্ট্রির কাজ কিভাবে করতে হয়।

ডাটা এন্ট্রি কিভাবে করে বা ডাটা এন্ট্রির কাজ কিভাবে করতে হয় ?

ডাটা এন্ট্রির কাজ গুলো সাধারণত টাইপিং করেই করতে হয়। কিন্তু শুধু টাইপিং করাই ডাটা এন্ট্রির কাজ নয়। টাইপিং এর পাশাপাশি আপনাকে কিছু সফটওয়্যার এর ব্যবহারও জানতে হবে। কারণ বর্তমানে টাইপিং এর পাশাপাশি আরো অনেক কাজ করতে হয়।

বিভিন্ন কোম্পানির প্রয়োজনীয়তা অনুসারে ভিন্ন ভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার করার প্রয়োজন হয়। তাই আমি ডাটা এন্ট্রির কাজ কিভাবে করতে হয় এই ধরনের কিছু বিষয় নিয়ে উদাহরণ সহ আলোচনা করছি।

উদাহরন ১ – ডাটা এন্ট্রি ফাইল কনভার্শন

ক্লায়েন্ট আপনাকে কিছু পিডিএফ অথবা ইমেজ ফাইল দিয়ে দিল। এখন আপনার কাজ হল এই ফাইলগুলো কে দেখে ওয়ার্ড, পাওয়ারপয়েন্ট, এক্সেল বা স্প্রেডশিট ফাইলে বা লিখিত আকারে কনভার্ট করা।

এই কাজটি করতে হলে আপনাকে শুধু টাইপিং করলেই হবে না। আপনার কাজের সুবিধার জন্য ইমেজ টু টেক্সট অথবা পিডিএফ টু ওয়ার্ড কনভার্টার সফটওয়্যার গুলোর ব্যবহার জানতে হবে।

উদাহরণ ২ – ডাটা এন্ট্রি ওয়েব স্ক্রাপিং

এক্ষেত্রে আপনাকে বলা হলো, আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরের ৫০০০ কফি শপের নাম, ঠিকানা, ফোন নাম্বার, মেনু ইত্যাদি কালেকশন করতে।

এ ধরনের কাজে আপনাকে ওয়েব স্ক্রাপিং সফটওয়্যারের ব্যবহার জানতে হবে। ওয়েব স্ক্রাপিং সফটওয়্যার গুলো আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে থাকে। তাই আপনাকে এই সফটওয়্যারগুলোর ব্যবহারবিধি খুব ভালোভাবে জানা থাকতে হবে।

উদাহরণ ৩ – ওয়েব রিসার্চ করে ডাটা এন্ট্রি

৫০ জন ইনভেস্টর খুঁজে বের করে দিন। যাদের ইনভেস্টমেন্টের পরিমাণ ১ মিলিয়ন ডলারের বেশি। এবং সেই সমস্ত ইনভেস্টরদের নাম, ইমেইল এড্রেস, লিঙ্কডইন প্রোফাইল ইত্যাদি।

গুগল সার্চ ইঞ্জিন এর উপর বেশি দক্ষতাই আপনাকে একাজ সম্পন্ন করতে সহায়তা করবে। এই কাজে কিন্তু বেশি কিছু টাইপ করতে হয় না। কিন্তু প্রচুর রিসার্চ করতে হয়।

ডাটা এন্ট্রি উদাহরণ দিতে গেলে অনেক দেওয়া যায়। কিন্তু এখানে আমি সংক্ষেপে তিনটি উদাহরণ এর মাধ্যমে সামগ্রিকভাবে ডাটা এন্ট্রি বোঝানোর চেষ্টা করেছি।

আশা করি আপনারা, ডাটা এন্ট্রি কিভাবে করে বা ডাটা এন্ট্রির কাজ কিভাবে করতে হয় এই সম্বন্ধে পরিষ্কার একটি ধারণা পেয়েছেন।

এবং এর সাথে এটিও বুঝতে পেরেছেন যে, ডাটা এন্ট্রি মানে শুধু টাইপিং নয়

ডাটা এন্ট্রি জব করতে কি কি যোগ্যতা প্রয়োজন
ডাটা এন্ট্রি জব করতে কি কি যোগ্যতা প্রয়োজন

ডাটা এন্ট্রি জব করতে কি কি যোগ্যতা প্রয়োজন?

প্রত্যেকটি কাজের জন্য কিছু বেসিক যোগ্যতা প্রয়োজন। তাই, ডাটা এন্ট্রি জব করতে কি কি যোগ্যতার প্রয়োজন তা জানা আবশ্যক।

ভালো ইংরেজি জানতে হবে। ইংরেজিতে আপনি যত পারদর্শী হবেন, ততোই একাজে আপনার সফলতার হার বেড়ে যাবে।

ইংরেজিতে টাইপিং স্পিড সাধারণত ৪৫ ওয়ার্ড পার মিনিট হতে হবে। তবে ট্রানস্ক্রিপশনিস্ট, সেক্রেটারিয়াল জব, টাইপিস্ট এই ধরনের ডাটা এন্ট্রি জব এর জন্য টাইপিং স্পিড ৬০ ওয়ার্ড পার মিনিট হওয়া আবশ্যক।

ভালোভাবে ইন্টারনেট রিসার্চ করতে জানতে হবে। যত প্রকারের ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিন আছে সবগুলোর, বিশেষ করে গুগলের অ্যাডভান্স সার্চ সম্বন্ধে আপনার ভালো জ্ঞান থাকতে হবে।

মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, এক্সেল, পাওয়ারপয়েন্ট এর ব্যবহার ভালোভাবে জানতে হবে। মোটামুটি এই সফটওয়্যারগুলোর অ্যাডভান্স জ্ঞান থাকা জরুরি।

ফ্রীল্যান্স ডাটা এন্ট্রি জব করার জন্য কি কি লাগে?

একটি মোটামুটি মানের ল্যাপটপ বা ডেক্সটপ কম্পিউটার থাকতে হবে।

ভালো গতিসম্পন্ন ইন্টারনেট থাকতে হবে। কারণ ডাটা এন্ট্রি জব গুলোতে অনেক সময় ইমেজ বা ভিডিও আপলোড এবং ডাউনলোড করতে হয়। তাই ভালো গতিসম্পন্ন ইন্টারনেট আপনার কাজের গতিকে ত্বরান্বিত করবে।

কিভাবে ডাটা এন্ট্রির কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায়?

দেখুন, ডাটা এন্ট্রি কাজের জন্য প্রথমত আপনাকে টাইপিং স্পিড প্র্যাকটিস করে ৬০ওয়ার্ড পার মিনিট গতি নিয়ে আসতে হবে। ইন্টারনেট থেকে বিভিন্ন ধরনের বই পিডিএফ আকারে পাওয়া যায়। চেষ্টা করুন সাইন্টিফিক টার্মস এবং ম্যাথমেটিক্যাল টার্মস আছে এই ধরনের বই কালেকশন করতে। এবং এগুলো দেখে দেখে টাইপ করার প্র্যাকটিস করুন।

উপরে আমি যে তিনটি উদাহরণ দিয়েছি এরকম কিছু কাজ আপনি কমপ্লিট করুন। এই কাজগুলো করতে গেলে আপনি প্রচুর অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন।

তাছাড়া আপনি নিজের মন মত প্রেক্ষাপট তৈরি করে এরকম আরো কিছু কাজ নিজে নিজে করুন। ইউটিউবে এরকম প্রচুর কাজ এর নমুনা দেখতে পাবেন। প্রতিনিয়ত এগুলো প্র্যাকটিস করুন।

অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে গিয়ে দেখুন ডাটা এন্ট্রি জব কি ধরনের পোস্ট হচ্ছে। এক্ষেত্রে আপনি freelancer.com, upwork.com এইসব সাইটগুলোতে ডাটা এন্ট্রি জব পোস্ট গুলো দেখতে পারেন।

ফ্রীল্যান্স কমিউনিটির সাথে যুক্ত থাকুন। অভিজ্ঞ ফ্রিল্যান্সারদের সাথে বন্ধুত্ব তৈরী করার চেষ্টা করুন। এবং তাদের কাজে কোন কিছুর বিনিময় ছাড়া সহযোগিতা করুন।

এতে করে আপনার কাজের অভিজ্ঞতা বাড়বে এবং অভিজ্ঞ ফ্রিল্যান্সারদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবেন।

আপনি যখন কাজে পারদর্শী এবং অভিজ্ঞ হবেন দেখবেন, তারাই আপনাকে পরবর্তীতে কাজ করার জন্য পেমেন্ট দেবে আপনাকে বলতে হবে না।

ডাটা এন্ট্রি কাজের পোর্টফোলিও তৈরি করুন

যেকোনো কাজের ক্ষেত্রে নিজের পোর্টফোলিও থাকা অত্যন্ত জরুরী। বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য একটি ভালো পোর্টফোলিও অনেক বড় ভূমিকা রাখে।

পোর্টফোলিও হচ্ছে আপনার কাজের নমুনা বা প্রমাণ। ফ্রিল্যান্সাররা সাধারণত নিজেদের পোর্টফোলিও প্রদর্শনের জন্য ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট ব্যবহার করে থাকে।

তাই, আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং এ নতুন হন তাহলে এই বিষয়টি আপনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট এ আপনার ব্যক্তিগত তথ্য এবং আপনার কাজের বিশদ নমুনা এবং আপনার কি কি কাজে পারদর্শীতা বা দক্ষতা আছে সেগুলো তুলে ধরবেন।

A skilled person is an ASSET for a company

সাধারণত বায়াররা নতুনদেরকে কাজ দিতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেনা। কিন্তু তাই বলে কি নতুনরা কাজ পাবে না? তাই একটু টেকনিক খাটিয়ে আপনার নিজেকে তুলে ধরতে হবে। যাতে করে ক্লায়েন্ট যদিওবা বুঝে আপনি নতুন কিন্তু আপনি এই কাজে পারদর্শী।

ফ্রী ব্লগ সাইটে আপনি আপনার নিজের পোর্টফলিও তৈরি করতে পারেন। পোর্টফোলিও যত সমৃদ্ধ হবে ততো কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।

ডাটা এন্ট্রি করে কত টাকা আয় করা যায়
ডাটা এন্ট্রি করে কত টাকা আয় করা যায়

ডাটা এন্ট্রি করে কত টাকা আয় করা যায়?

সাধারণত ডাটা এন্ট্রি জব গুলো ঘন্টা ভিত্তিক হয়ে থাকে। তবে কিছু ক্যাটাগরি রয়েছে যেগুলো চুক্তিভিত্তিক হয়ে থাকে।

টাইপিং করার জন্য প্রতি ঘন্টায় ৩ – ২০ ডলার পর্যন্ত হয়। এটি নির্ভর করে কি ধরনের টাইপিং এবং দক্ষতার উপর।

আবার কিছু কাজ আছে যেগুলো চুক্তিভিত্তিক হয়ে থাকে। যেমন মনে করুন আপনাকে ৫০০ টি কোম্পানির ইনফর্মেশন দিতে বলা হয়েছে। এরকম কাজগুলো নির্দিষ্ট পরিমাণের অ্যামাউন্ট নির্ধারণ করা থাকে।

আসলে ডাটা এন্ট্রি করে কত টাকা ইনকাম করা যায় এটি নির্ভর করে আপনি কি ধরনের ডাটা এন্ট্রি জব গুলো করছেন।

মোটামুটিভাবে অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং ডাটা এন্ট্রি জব করে ৫০০ থেকে ১০০০ ডলার অ্যাভারেজ ইনকাম করা যায়। এটি শুধুমাত্র আপনাদের চিন্তার সুবিধার জন্য বলা হয়েছে। এর চেয়েও বেশি ইনকাম অনেক মানুষ করছে।

ডাটা এন্ট্রি কাজ -কোথায় পাওয়া যায়
ডাটা এন্ট্রি কাজ -কোথায় পাওয়া যায়

ডাটা এন্ট্রি কাজ কোথায় পাওয়া যায়?

ডাটা এন্ট্রির কাজ গুলো সাধারণত বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেস ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়। এসমস্ত ওয়েবসাইটগুলোতে একাউন্ট করে নিতে হয়। একাউন্ট করতে কোন টাকা পয়সা লাগে না ফ্রীতেই করা যায়।

অ্যাকাউন্ট করার পর সেখানে জব পোস্ট গুলো দেখে কাজের জন্য আবেদন করতে পারবেন। একেক ওয়েবসাইটে কাজের আবেদন ভিন্ন ভিন্ন ভাবে করতে হয়। মার্কেটপ্লেসগুলোতে একটু রিসার্চ করলেই এই বিষয়গুলো পরিষ্কার হয়ে যাবেন।

বন্ধুরা আপনাদের সুবিধার জন্য আমি এখানে কিছু ওয়েবসাইটের লিস্ট দিয়েছি। এ ওয়েবসাইট গুলোতে ডাটা এন্ট্রির কাজ বেশি পাওয়া যায়।

ফাইভার ( Fiverr.com )
আপওয়ার্ক ( Upwork.com )
পিপল পার আওয়ার ( Peopleperhour.com)
ফ্লেক্স জবস ( Flexjobs.com )
গুরু ( Guru.com )

তাছাড়া সফল ফ্রিল্যান্সার হওয়ার পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন টি দেখুন। এখানে কাজ কিভাবে পেতে হয় এবং কিভাবে সফল ফ্রিল্যান্সার হওয়া যায় তার একটি স্পষ্ট ধারণা পেয়ে যাবেন।

ডাটা এন্ট্রি কাজের সাবধানতা সতর্কতা
ডাটা এন্ট্রি কাজের সাবধানতা সতর্কতা

ডাটা এন্ট্রি কাজের সাবধানতা বা সতর্কতা

ডাটা এন্ট্রি কাজের কিছু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। বন্ধুরা ডাটা এন্ট্রির কাজ যেহেতু অন্যান্য কাজ থেকে একটু সহজ, তাই এই কাজে নতুনদের আগমন হয় প্রচুর।

আর এ কারনেই কিছু প্রতারক চক্র এই নতুনদেরকে টার্গেট করে স্ক্যাম ছড়ায়। ডাটা এন্ট্রির কাজ এ স্ক্যাম অনেক বেশী হয়ে থাকে।

কিছু ক্ষেত্রে আপনি যখন এ কাজের জন্য আবেদন করবেন, দেখবেন আপনাকে বলা হবে এখানে রেজিস্ট্রেশন করুন, বা আপনার জন্য আইপি নিতে হবে তার জন্য খরচ দিতে হবে।

অর্থাৎ আপনার কাছ থেকে কোনো প্রকার টাকা চাওয়া হলে কাজের আগেই, তাহলেই বুঝে যাবেন এটি একটি প্রতারক চক্র। তারা আপনাকে অনেক প্রকার প্রলোভন দেখানোর চেষ্টা করবে।

আবার কিছু কিছু কাজ আছে যে, ক্লিক করলেই টাকা, অ্যাড দেখলেই টাকা। এই ধরনের কাজ থেকে সবসময় দূরে থাকবেন। এটি আমার একদম ব্যক্তিগত অনুরোধ।

কারণ এই ধরণের কাজ দিয়ে আপনার কখনোই ক্যারিয়ার তৈরি হবে না। এগুলোতে যে পরিমাণ সময় আপনার ব্যয় হবে এরচেয়ে আপনি অন্য কাজের জন্য সময় ব্যয় করুন।

এমনকি এই প্রতারক চক্র গুলো ভালো ভালো মার্কেটপ্লেসগুলোতে বায়ার সেজে জব পোস্ট করে থাকে। এই ডাটা এন্ট্রি জব গুলো একটু লক্ষ করলেই বুঝতে পারবেন। দেখবেন খুব সহজ কাজে অনেক টাকা পেমেন্ট করছে।

শেষ কথা

তো বন্ধুরা ডাটা এন্ট্রি জব গুলো করার জন্য অনেক ধৈর্যের প্রয়োজন হয়। এই বিষয়টা একটু খেয়াল রাখতে হবে। যেকোনো কাজেই আপনি যদি পারদর্শী হোন আপনার দক্ষতা যদি ভাল হয় সে কাজেই আপনি সফল হবেন।

আশাকরি ডাটা এন্ট্রি কি এবং ডাটা এন্ট্রির কাজ কিভাবে করতে হয়? ডাটা এন্ট্রি কাজ করে কত টাকা আয় করা যায় এসব বিষয় আপনাদের একটি ভালো ধারণা দিতে পেরেছি।

তাছাড়া ডাটা এন্ট্রি নিয়ে যে এটি ভুল ধারণা যে ডাটা এন্ট্রির মানে শুধু টাইপিং। এবং ডাটা এন্ট্রি যে কত প্রকারের হতে পারে তারও একটি স্পষ্ট ধারণা পেয়েছেন।

ধন্যবাদ , আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য। আরো কিছু জানার থাকলে কমেন্ট করে জানাবেন। আপনাদের কমেন্ট এর উপর ভিত্তি করে আরও আর্টিকেল দেয়ার চেষ্টা করব ইংশা-আল্লাহ।

Click to rate this post!
[Total: 3 Average: 3.7]

Leave a Comment