ব্লগিং করার জন্য সেরা ৬ টি ফ্রি ওয়ার্ডপ্রেস থিম

অনলাইন থেকে ইনকামের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে ব্লগিং। আর এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মাধ্যমে আপনি সহজেই গুগল এডসেন্স এর সাহায্যে নিজের সাইটে এড বসিয়ে ইনকাম করতে পারেন।

কম খরচে ব্লগিং ওয়েবসাইট তৈরি করার সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে ওয়ার্ডপ্রেস। তাই ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করে ব্লগিং এর জন্য ওয়েবসাইট তৈরি করতে হলে আপনার প্রয়োজন একটি ভাল অপটিমাইজড ওয়ার্ডপ্রেস থিম। 

আপনার ব্লগের আর্টিকেল অনেক ভালো, এসইও অনেক ভালো। কিন্তু থিম ইউজার ফ্রেন্ডলি না তাহলে সেটা গুগল র‍্যাংকিং এ অনেক সমস্যা করবে। যার ফলে আস্তে আস্তে কমে আসতে পারে আপনার কাঙ্খিত ভিজিটর। এর জন্য আপনার প্রয়োজন হবে একটি ভালো মানের ইউজার ফ্রেন্ডলি থিম

তাই আজকের এই আর্টিকেলটিতে আমি আপনাদেরকে ব্লগিং এর জন্য সেরা ৭ টি ওয়ার্ডপ্রেস থিম এর সাথে পরিচয় করিয়ে দিবো। যেই থিমগুলো অনেক অপটিমাইজড, ইউজার ফ্রেন্ডলি এবং এসইও ফ্রেন্ডলি।

ব্লগিং এর জন্য সেরা ৬ টি ফ্রি ওয়ার্ডপ্রেস থিম

থিমের নাম পেজ সাইজ (প্রায়) একটিভ ইন্সটল ৫ স্টার রেটিং ডিটেইলস
Astra ৫০ কেবি ১ মিলিওন+ ৪৮০০+ চেক করুন
OceanWP ২৫০ কেবি ৭ লক্ষ+ ৪৮০০+ চেক করুন
Generatepress ১০ কেবি ৪ লক্ষ+ ১২০০+ চেক করুন
Neve ৪০ কেবি ৩ লক্ষ+ ৭৫০+ চেক করুন
Hestia ২০০ কেবি ১ লক্ষ+ ৪০০+ চেক করুন
Kadence ৪৫ কেবি ৪ লক্ষ+ ৮০ হাজার+ চেক করুন
Astra ওয়ার্ডপ্রেস থিম

১। Astra থিম

ব্লগিং এর ক্ষেত্রে সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি থিম হচ্ছে এস্ট্রা থিম। এর জনপ্রিয়তার কারন হচ্ছে এর ফিচার, ডিজাইন এবং লেআউট। সেই সাথে এটি পুরোপুরি কাস্টোমাইজ করা। এখন পর্যন্ত এই থিমটির ব্যাহারকারীর সংখ্যা ১মিলিয়ন এর বেশি এবং রিভিউ সংখ্যা পাচ হাজার প্লাস। এই বিশাল অডিয়ান্স এস্ট্রা এর জন্য সাধারন কোন মাইলফলক নয়।

এর জনপ্রিয়তার তিনটি প্রধান কারন হলো। অন্যান্য থিমের চেয়ে এই থিমটি অনেক হালকা। এটি শুধুমাত্র ০.৫ সেকেন্ডে লোড নিতে সক্ষম এবং আপনার সাইটটি অনেক বড়ো হলও এর লোডিং স্পিড ঠিক আগের মতোই থেকে যায়। সেই সাথে এই থিমটি হাইলি কাস্টোমাইজড করা। যার কারনে এস্ট্রা এতো জনপ্রিয়।

এসইও ফ্রেন্ডলির কথা অসলে সবার আগে বলতে হয় এস্ট্রা ইজ বেষ্ট। সচ্ছতা এবং রিডএবল টাইপোগ্রাফি মোবাইল ডিভাইসের জন্য অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। যার পুর্ণাঙ্গ বৈশিষ্ট এস্ট্রা থিমের মাঝে আছে।  মজার বিষয় হলো এই থিমটির ফ্রি এবং পেইড দুই ভাসর্নেই আছে।

তবে ফ্রি ভার্সনে কিছু প্রিমিয়াম ফিচার থাকবে না যা পরবর্তিতে আপনার কাজের সমস্যা করতে পারে। দেখে নেয়া যাক এর সুবিধা এবং অসুবিধা।

এছাড়াও আরও অনেক ফিচার আছে যা আপনার ব্লগকে আরও আকর্ষণিয় করে তুলতে সাহায্য করবে। তবে লং টার্ম কাজ করার জন্য আপনার প্রো ভার্সনটাই সবথেকে বেষ্ট হবে।

OceanWp ওয়ার্ডপ্রেস থিম

২। OcenWp থিম

ওয়েবসাইট ডেভলপার, ওয়েবসাইট ডিজাইনার, ই-কমার্স স্টোর মালিক, এবং যারা সৌখিন ব্লগিং করে তাদের জন্য প্রিয় একটি ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগার থিম হলো ওসেনডব্লিউপি। নতুনদের জন্য এটি অত্যন্ত ইউজার ফ্রেন্ডলি এবং দ্রুত কাস্টমাইজড এর সুবিধা। সেই সাথে রয়েছে রেস্পন্সিভ ডিজাইন এবং  কাস্টমাইজড।

ওসেনডব্লিউপি একটি বহুমুখী থিম।  এটি প্রায় সবধরনের ব্লগেই ব্যবহার করা যায়। এটি অত্যান্ত ভার্সেটাইল কমপ্লিট এবং ফ্লেক্সিয়েবল থিম। এই থিমটি  উক্ত ওয়েবসাইটের জন্য এর ব্যবহার আনলিমিটেড করে দিয়েছে।  এই থিমটি  একদম রেডি একটি থিম।

এসইও এর জন্য ওসেনডব্লিউপি একটি চমৎকার থিম।  এই থিমটিতে  রয়েছে রেডি আরটিএল (RTL)  এবং ট্রানসলেশন। ওসেনডব্লিউপি অন্যান্য  থিমের চেয়ে  হালকা এবং  দ্রুতগতিসম্পন্ন।

এটি শুধুমাত্র ইউজার ফ্রেন্ডলি বা সহজ বোধগম্য তাই নয়, এতে কাস্টমাইজেশনের জন্য ডেভেলপার-বান্ধব কোডবেস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর ফলে আপনার যদি কোডিং জ্ঞান থাকে তাহলে আপনি ইচ্ছা মতন এই থিমকে কাস্টমাইজ এবং মেনুপুলেট করতে পারবেন।

Generatepress থিম

৩। GeneratePress থিম

জেনারেটপ্রেসও একটি জনপ্রিয় থিম। এ পর্যন্ত এর একটিভ ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৪,০০,০০০ প্লাস। এবং রেটিং ১,২০০  প্লাস। এই থিমটি অত্যন্ত হালকা,  দ্রুতগতিসম্পন্ন  এবং এই থিমটির ব্যবহার অনেক সহজ হওয়ার কারণে  এর জনপ্রিয়তা এত বেশি।

জেনারেটপ্রেস থিমটি এতটাই হালকা যে  এটি ৫০ কেবিরও নিচে।  শুধু মাত্র 1 সেকেণ্ডে  এই থিমটি লোডিং নিতে সক্ষম। যদি কোন ব্লগার কে প্রশ্ন করা হয় ব্লগিং করার জন্য কোন  থিমটি সবচেয়ে ভালো।  ৯৫% ব্লগাররাই বলবে জেনারেটপ্রেস  ইজ দা বেস্ট।

ব্লগিং এর জন্য এই  থিমটির ডিজাইন ও লে-আউট অত্যন্ত সহজ করে সাজানো রয়েছে। আপনি চাইলে এই থিমটিতে আপনার নিজস্ব ডিজাইন ও লে-আউট ব্যবহার করতে পারেন।

আপনি যে কোন ধরণের কাস্টমাইজেশন প্রয়োগ করুন না কেন, থিমটি চমৎকারভাবে কাজ করে। এটির রেস্পন্সিভনেস খুবই ভাল। এবং যেকোনো ধরনের ডিভাইস এবং স্ক্রিন রেজোলিউশনে সঠিকভাবে প্রদর্শন করে।

এই থিমটি ফ্রী এবং পেইড দুই ভার্সনেই পাওয়া যায়।

Neve ওয়ার্ডপ্রেস থিম

৪। Neve থিম

Neve থিম হল প্রায় যেকোনো ওয়েবসাইট তৈরির জন্য একটি লাইটওয়েট স্টার্টার থিম। আপনার নির্দিষ্ট প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী এই থিমটি কাস্টমাইজ করা অত্যন্ত সহজ।

উপরন্তু, এই থিমটি প্রায় সব ধরনের পেইজ বিল্ডারের সাথে ভালো কাজ করে। অর্থাৎ আপনার কোন কোডিং জ্ঞান না থাকলেও নিখুঁত ওয়েবসাইট তৈরিতে কোন প্রকার সমস্যা হবে না।

কাস্টোমাইজেশনের ক্ষেত্রে নেভ থিমটিতে হেডার এবং ফুটার কাস্টমাইজ করার স্বাধীনতা দিয়েছে। ওয়েবসাইট লেআউট পরিবর্তন করার সুযোগ রয়েছে। গুটেনবার্গ,  এলিমেন্টর, বিভার বিল্ডার, ব্রিজি, ডিভি বিল্ডার ইত্যাদি পেইজ বিল্ডার সাথে চমৎকার ভাবে কাজ করা যায়।

এখানে ৮০+  বিল্টিন ডেমো রয়েছে। নেভ স্টার্টার সাইট লাইব্রেরিতে প্রতি মাসে নতুন ডিজাইন যোগ করা হয়।  এএমপি (AMP) বা অ্যাক্সিলারেটেড মোবাইল পেজ সাপোর্টেড। যাতে করে মোবাইল ব্যবহারকারীদের দ্রুততর ওয়েব অভিজ্ঞতা প্রদান করে।

Hestia ওয়ার্ডপ্রেস থিম

৫। Hestia থিম

Hestia অনেক জনপ্রিয় একটি থিম। এই থিমটি খুব সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এই থিমটি গুগল মাটেরিয়াল ডিজাইন গাইডলাইন ফলো করে তৈরি করা। অর্থাৎ এটি মডার্ন ও ইউজার ফ্রেন্ডলি ফ্ল্যাট ডিজাইন। তাই এটি দেখতে বেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন।

হেস্টিয়া থিমটির মেনু ডিজাইন অনেক সহজ ও সাবলীল। একটি কথা আমাদেরকে মনে রাখতে হবে থিম যত হালকা হবে ততই ইউজারদের এক্সপেরিয়েন্স ভালো হবে। বর্তমান থিমের অরণ্যে আমরা এমন থিম ব্যবহার করি যেগুলো অনেক বেশি ফিচার দেওয়া থাকে। আদতে এইসমস্ত বেশিরভাগ ফিচার আমরা ব্যবহার করি না। আর অতিরিক্ত ফিচার এর কারণে থিমের সাইজ বেশি হয়ে যায় ও কমপ্লেক্স হয়ে যায়।

হেস্টিয়া থিমটির রেসপন্সিভনেস অনেক ভালো। এটি জনপ্রিয় পেজ বিল্ডারগুলো সাপোর্ট করে। যেমনঃ- এলিমেন্টর, গুটেনবার্গ, ডিভি বিল্ডার ইত্যাদি। এই থিমটির প্রো ভার্সনও রয়েছে যেখানে আপনি আরো এক্সট্রা কিছু সুবিধা পাবেন। তবে ফ্রি থিমটি দিয়ে অনায়াসে ব্লগিং শুরু করা যেতে পারে।

Kadence ওয়ার্ডপ্রেস থিম

৬। Kadence থিম

ব্লগারদের কাছে, ক্যাডেন্স থিমটি তার পরিষ্কার ব্লগ স্টাইলিংয়ের কারণে বেশ কদরনিয়, ইমেজ প্লেসমেন্ট এবং স্টিকি সাইডবার অপশন গুলো বেশ আকর্ষণীয়। উপরন্তু, কোর ব্লক এডিটরের সাথে ক্যাডেন্স এর একটি গভীর ইন্টিগ্রেশন রয়েছে।

ক্যাডেন্স থিমটি হল একটি লাইটওয়েট এবং সম্পূর্ণ বৈশিষ্ট্যযুক্ত (Full Featured) ওয়ার্ডপ্রেস থিম। যার মাধ্যমে ফাস্ট-লোডিং এবং দ্রুত অ্যাক্সেসযোগ্য ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়। এটি ব্যবহার করা সহজ এবং ড্র্যাগ-এন্ড-ড্রপ এর মাধ্যমে হেডার এবং ফুটার ডিজাইন করা যায়।

যেহেতু ক্যাডেন্স ফ্রি এবং পেইড উভয় সংস্করণেই পাওয়া যায়, তাই আপনি সম্ভবত ফ্রি ভার্সনটিতে খুব সীমিত আশা করবেন, কিন্তু মোটেও তা নয়। ফ্রি থিমটি বেশ সক্ষম এবং অনেক ব্যবহারকারীর চাহিদা পূরণ করে সন্তুষ্ট করেছে।

এখানে ছয়টি ভিন্ন বিভাগে সেটিংস রয়েছে। Global Colors, Branding, Typography, Header Layout, Page Layout, Footer Layout। এছাড়াও এডিশনাল কাস্টমাইজেশন অপশন রয়েছে। এখান থেকে আপনি স্ট্যান্ডার্ড ব্লগ পোস্ট লেআউট কাস্টমাইজ করতে পারেন, অনেকটা Page Layout অপশনের মত।

এছাড়াও এই থিমের একটি বিশেষ প্লাগিন আছে যার নাম Kadence Blocks Plugin। এটিও ফ্রী এবং পেইড ভার্সন আছে। ব্লগারদের এই থিমের অন্যতম আকর্ষণীয় এই প্লাগিনটি।

Row layout, Tabs, Table of contents, Advanced button, Advanced heading, Advanced gallery, Icon, Icon list, Info box, Accordion, Testimonials, Form এই সমস্ত ইলিমেন্ট গুলো এই প্লাগিন দ্বারা পরিপূর্ণভাবে কাস্টমাইজ করা যায়।

ফ্রী থিম গুলোর মধ্যে Kadence অনেক বেশী সুবিধা দিয়েছে। যা অনেক প্রিমিয়াম থিম এও এরকম সুবিধা পাওয়া যায় না।

শেষ কথা, আপনি যদি নতুন ব্লগার ইউজার হয়ে থাকেন তাহলে আপনার জন্য আমার প্রথম পরামর্শ হচ্ছে প্রথমে আপনি উপরিউক্ত যেকোনো একটি থিম ফ্রিতে ব্যবহার করবেন। কয়েক মাস যাওয়ার পর যখন আপনার ব্লগিং সাইটটি একটি নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে পৌঁছাবে এবং আপনার সাইটটিতে ট্রাফিক আসা শুরু করবে তখন আপনি সেই থিমটির পেইড ভার্সন ব্যবহার করতে পারেন।

Click to rate this post!
[Total: 2 Average: 3.5]

Leave a Comment