সফটওয়্যার ছাড়া উইন্ডোজ টেন এর স্পিড বাড়ানোর প্রয়োজনীয় টিপস্

আমাদের দেশের বেশিরভাগ কম্পিউটার ব্যবহারকারীর একটি কমন কথা, যে আমার উইন্ডোজ স্লো হয়ে গেছে । কিন্তু আসল ব্যাপার হলো আমাদের উইন্ডোজ বা সিস্টেম স্লো হয়নি।

আমরা কিছু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়ার ফলেই এই বিষয়টি ঘটে থাকে। প্রত্যেকটি বিষয়ের যেমন নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন হয় ,তেমনি উইন্ডোজের সিস্টেমকেও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এর প্রয়োজন হয়।

এখানে আমি উইন্ডোজ টেন এর স্পিড বাড়ানোর প্রয়োজনীয় টিপস্ নিয়ে Step-by-step আলোচনা করেছি:-

টিপস্ ১ > সি ড্রাইভকে ক্লিন করাঃ

প্রথমেই আমাদের উইন্ডোজ বাটনে ক্লিক করে সেটিংস এ চলে যাব।

আরো পড়ুনঃ উইন্ডোজ টেন এ সি ড্রাইভের স্টোরেজ বাড়ান, ফরমেট বা ডাটা লস ছাড়াই

windows settings option

এখন আমরা উইন্ডোজ সেটিংস প্যানেল এ চলে আসব। এখান থেকে আমরা সিস্টেম এ ক্লিক করব । তারপর স্টোরেজে ক্লিক করব। যদি বুঝতে কষ্ট হয় তাহলে চিত্র গুলো খেয়াল করুন।

Windows System Option e1632574934521
Storage Option

স্টোরেজ এ ক্লিক করার পর যে উইন্ডোটি আসবে এখান থেকে টেম্পরারি ফাইলস এ ক্লিক করব।

clicking on temporary files

টেম্পোরারি ফাইলস এ ক্লিক করার পর আমরা দেখতে পাবো, টেম্পোরারি ফাইল এর একটি উইন্ডো চলে আসবে। এখানে একটা বিষয় লক্ষণীয়, যদি আপনার স্টোরেজ ডিভাইস টি HDD তাহলে একটু সময় নেবে আর যদি SSD অথবা NVME যদি হয়ে থাকে তাহলে খুব দ্রুত ইনিশিয়ালাইজ হয়ে যাবে।

এখন এখানে সবগুলো অপশন এ টিক চিহ্ন দিয়ে দেবো। তারপর রিমুভ ফাইলস বাটনে ক্লিক করব।

removing temporary files

টিপস্ ২ > Windows Run থেকে temp file ডিলিট করা

কীবোর্ড থেকে Windows চিহ্নিত বাটনটি এবং R বাটনটি একসাথে চেপে ধরবো (Windows+R)।এখন এখানে temp টাইপ করে OK বাটনে ক্লিক করব।

windows run temp file delete

এখন এখান থেকে কিবোর্ডের Ctrl+A চেপে ধরে সবকিছু একসাথে সিলেক্ট করে নিব এবং ডিলিট করে দিব।

আবার পূর্বের ন্যায় কীবোর্ড থেকে Windows চিহ্নিত বাটনটি এবং R বাটনটি একসাথে চেপে ধরবো (Windows+R)।এখন এখানে %temp% টাইপ করে OK বাটনে ক্লিক করব।

windows-temp-file-delete

পূর্বের মতন সব সিলেক্ট করে ডিলিট করে দিব। এখানে কিছু ফাইল ডিলিট হবে না সেগুলো নিয়ে চিন্তার কোন কারণ নেই, কারণ এগুলো বর্তমানে আপনার কম্পিউটারে ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস এ রানিং আছে, তাই এগুলো ডিলিট হবে না।

আবারো পূর্বের step ফলো করে Run এ prefetch লিখব এবং এখান থেকেও সব ফাইল ডিলিট করে দিব।

windows run prefetch

টিপস্ ৩ > Windows Startup থেকে Load কমানো

আমাদের কম্পিউটার স্ক্রিনের সবচেয়ে নিচে যে BAR দেখা যায় এটিকে বলে Taskbar. Taskbar এর খালি যেকোনো জায়গায় মাউসের রাইট বাটন ক্লিক করলে একটি ড্রপডাউনলিস্ট আসবে এখান থেকে আমরা টাস্ক ম্যানেজার ক্লিক করব।

windows task manager

এখন Task Manager উইন্ডো থেকে আমরা Startup এ ক্লিক করব। এখন লক্ষ করে দেখুন এখানে অনেকগুলো সফটওয়্যার দেখা যাচ্ছে। আমাদের উইন্ডোস যখন স্টার্ট হয় এই সফটওয়্যার গুলো ও একসাথে স্টার্ট হয়। এখানে যত বেশি সফটওয়্যার এনাবল থাকবে ততবেশি উইন্ডোজ স্টার্ট হতে সময় নেবে।

তাই আমরা যে সফটওয়্যারটি আমাদের উইন্ডোজ স্টার্ট হওয়ার সাথে সাথেই প্রয়োজন নেই, সে ধরনের সফটওয়্যার গুলো আমরা মাউসের রাইট বাটন ক্লিক করে ডিজেবল করে দিব। উদাহরণস্বরূপ চিত্রটি দেখুন।

windows startup app disable

টিপস্ ৪ > Disk Defragment করা

উইন্ডোজ এর সিস্টেম স্মার্টলি রান করার জন্য ডিস্ক ডিফ্রাগমেন্ট করাটা অত্যন্ত জরুরী।এটি মাসে অন্তত একবার করা ভালো। ডিস্ক ডিফ্রাগমেন্ট সিস্টেমের স্টোরেজঃ ডাটাগুলোকে সন্নিবেশিত করে সাজিয়ে রাখে। এতে করে সিস্টেম এর ডাটা প্রসেসিং টাইম কমে যায়।

Disk Defragment করার জন্য আমরা উইন্ডোজ সার্চ এ Disk Defragment টাইপ করব। এবং লিস্ট থেকে সিলেক্ট করে নেব।

selecting disk defragment

আরো পড়ুনঃ কিভাবে কম্পিউটারে ফোল্ডার লক করতে হয় । ফোল্ডার লক করার নিয়ম

এখন আমরা যে ড্রাইভ টি Defragment করতে চাই, সেটি সিলেক্ট করে এনালাইজ বাটনে ক্লিক করব। এনালাইজ হয়ে গেলে অপটিমাইজ বাটনে ক্লিক করব। এই প্রসেস টি চাইলে আপনি অটোমেটিক করে নিতে পারেন Change Settings option থেকে। এখানে উইক লি এবং মান্থলি বেসিসে করা যায়।

windows defragment

টিপস্ ৫ > উইন্ডোজ টেন এর Effects and Animation বন্ধ করা:

আপনার সিস্টেম কনফিগারেশন যদি লো হয় তাহলে এই টিপসটি ফলো করতে পারেন। উইন্ডোজ টেন এর নিজস্ব কিছু ইফেক্ট এন্ড অ্যানিমেশন আছে যেগুলো প্রসেস করতে গিয়ে সিস্টেমের মেমোরি ব্যবহৃত হয়। এইজন্য এই ইফেক্ট এবং এনিমেশনটি বন্ধ করে দিলে, সিস্টেমের মেমোরির চাপ কমে যায়। এটি করার জন্য আমরা আমাদের ডেক্সটপে This Pc আইকন টির উপর রাইট বাটন ক্লিক করে প্রোপার্টিজ সিলেক্ট করব।

this pc properties option

এখন এখান থেকে Advance system settings এ ক্লিক করব।

advance system setting

এবার System Properties থেকে Settings এ ক্লিক করব

system property settings

এরপর Adjust for best performance অপশনটি সিলেক্ট করে প্রথমে এপ্লাই বাটন তারপর ওকে বাটনে ক্লিক করব।

adjust for best performance

তাছাড়া স্পিড এবং পারফরমেন্স আরো বাড়ানোর জন্য আপনি পেনড্রাইভ কে মেমোরি হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।

আশা করি উইন্ডোজ টেন এর স্পিড বাড়ানোর টিপস গুলো আপনাদের কাজে লাগবে। এ আর্টিকেলে কোন কিছু বুঝতে অসুবিধা হলে নিচে কমেন্ট করে জানাবেন। এবং আর কি বিষয় জানতে চান সে বিষয়েটি আমাদের জানান। চেষ্টা করব আপনাদের প্রয়োজন অনুযায়ী আরো টিপস দিতে।

ধন্যবাদ।

Click to rate this post!
[Total: 0 Average: 0]

Leave a Comment