ড্রাইভিং লাইসেন্স হয়েছে কিনা কিভাবে জানবো ২০২৪

ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন করার সময়ে দালালের খপ্পরে পড়েনি এমন মানুষ কিন্তু খুঁজে পাওয়া যাবেনা। দেখা গেল, দালালের কারণে আবেদনকারী অনেক বেশি টাকা, সময়, এবং শক্তি খরচ করে ফেলেছেন কিন্তু আসল কাজের কিছুই হয়নি। আপনিও যদি ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করার চিন্তাভাবনা করে থাকেন তাহলে আপনার আগে থেকেই এসব ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। 

ড্রাইভিং লাইসেন্স হয়েছে কিনা কিভাবে জানবো ২০২৪

সম্পূর্ণ দালালমুক্ত উপায়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স হয়েছে কিনা কিভাবে জানবো - এটা যদি আপনার প্রশ্ন হয়, তাহলে আজকের আর্টিকেলটি আপনার জন্যই। পড়ে ফেলুন আর্টিকেলটি আর জেনে নিন ঘরে বসে কিভাবে খুব সহজে নিজের ড্রাইভিং লাইসেন্সের আপডেট পাবেন।

ড্রাইভিং লাইসেন্স কি? 

এক কথায়, ড্রাইভিং লাইসেন্স হচ্ছে গাড়ি চালানোর অনুমতিপত্র৷ অন্যভাবে বলতে গেলে, একজন ব্যক্তি সর্বসাধারণের চলাচলের রাস্তায় গাড়ি চালানোর জন্য কতটা দক্ষ, গাড়ি চালানোর সময়ে তিনি মানুষ সহ অন্য গাড়ি ও সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারবেন কিনা, ইত্যাদি বৈধভাবে নিশ্চিত করা হয় যে কাগজ দিয়ে তাকে ড্রাইভিং লাইসেন্স বলে। 

ড্রাইভিং লাইসেন্স হয়েছে কিনা কিভাবে জানবো

আপনি মোবাইলের এসএমএস বা সফটওয়্যারের মাধ্যমে খুব সহজেই চেক করতে পারবেন আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্সটি হয়েছে কিনা। তবে এখানে একটা কথা আপনার জেনে রাখা উচিত, সেটা হচ্ছে সফটওয়্যারের চাইতে এসএমএস পদ্ধতি অনুসরণ করা ভালো। কারণ আপনি যদি প্রথমবারের মতো লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেন, তাহলে আবেদনের তিন মাস পরে সফটওয়্যারে আপনার তথ্য অন্তর্ভুক্ত হবে। আবার অনেক সময় টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে সফটওয়্যার কাজ না-ও করতে পারে। তাই অযথা সময় নষ্ট না করে মেসেজের মাধ্যমে তাড়াতাড়ি ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য সম্পর্কে জেনে নিন।

মেসেজ এর মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করার পদ্ধতি 

মেসেজ বা এসএমএসের মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করতে চাইলে আপনার মোবাইলে মেসেজ অপশন ওপেন করুন। মেসেজ বক্সে প্রথমে DL টাইপ করুন। তারপরে একটি স্পেস দিয়ে আপনার রেফারেন্স নম্বরটি টাইপ করুন। এই রেফারেন্স নম্বরটা হচ্ছে বিআরটিএ প্রদত্ত যেটা পাবেন প্রাপ্তি স্বীকার রশিদে। 

ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করার সময়ে যখন সব কাগজপত্র জমা দিবেন তখন অফিস থেকে আপনাকে একটি ছাড়পত্র বা প্রাপ্তি স্বীকার রশিদ দিবে৷ সেই রশিদে রেফারেন্স নম্বর এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহ করার তারিখ উল্লেখ করা থাকবে। 

DL এবং রেফারেন্স নম্বর টাইপ করার পরে মেসেজটি ২৬৯৬৯ নম্বরে পাঠিয়ে দিবেন। মেসেজ সেন্ড করার ৫ মিনিটের মধ্যে ফিরতি মেসেজে আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্সের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানানো হবে। এছাড়াও আপনি যদি আপনার লাইসেন্স সংশোধনের জন্য দিয়ে থাকেন, তাহলে এই পদ্ধতি অনুসরণ করে লাইসেন্স সংশোধনের আপডেট সম্পর্কে জানতে পারবেন। 

আপনি যদি ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের জন্য আবেদন করে থাকেন তাহলেও মেসেজের মাধ্যমে আপডেট পাবেন। তবে পার্থক্য হচ্ছে, এই ক্ষেত্রে আপনাকে এসএমএস করতে হবেনা, বিআরটিএ থেকেই আপনাকে এসএমএস পাঠানো হবে। নিয়ম অনুযায়ী সব কাগজপত্র বিআরটিএ অফিসে জমা দেয়ার পরে নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে আপনাকে আপনার বায়োমেট্রিক তথ্যাদি (ছবি, আঙুলের ছাপ, এবং স্বাক্ষর) প্রদান করতে হবে। 

এরপরে যখন ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রিন্ট হবে তখন আপনার মোবাইলে মেসেজ আসবে। মেসেজে আপনি নবায়নকৃত ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহ করার নিয়ম জানতে পারবেন। 

অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করার নিয়ম (সফটওয়্যার দিয়ে) 

  • প্রথম ধাপ - প্রথমে প্লে স্টোর থেকে DL Checker নামের অ্যাপ্লিকেশনটি ডাউনলোড করুন।
  • দ্বিতীয় ধাপ - অ্যাপটি ওপেন করুন এবং নির্ভুলভাবে আপনার জন্ম তারিখ টাইপ করুন। 
  • তৃতীয় ধাপ - জন্ম তারিখ টাইপ করার পরে DL No. এবং Ref. No. নামের দুইটি অপশন দেখতে পাবেন। Ref. No. এ ক্লিক করে রেফারেন্স নম্বরটি টাইপ করবেন। যদি আপনার কাছে DL বা ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বর থাকে তাহলে DL No. এ ক্লিক করে নম্বরটি বসিয়ে দিবেন। 
  • চতুর্থ ধাপ - এরপরে Submit অপশনে ক্লিক করলে আপনি আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্সটি দেখতে পাবেন বা এর আপডেট জানতে পারবেন। যদি আপনার লাইসেন্সের প্রিন্ট কপি তৈরি হয়ে থাকে তাহলে বাম পাশে Success লেখা থাকবে এবং আপনি সম্পূর্ণ প্রিন্ট কপিটাই (ফ্রন্ট পেইজ ও ব্যাক পেইজ সহ) দেখতে পাবেন। যদি প্রিন্ট কপি সম্পূর্ণ তৈরি হয়ে না থাকে তাহলে Pending লেখা দেখতে পাবেন এবং লাইসেন্সটি তৈরি হতে কত সময় লাগতে পারে তা জানতে পারবেন। 

প্রশ্ন ও উত্তর 

১| ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য কি কি কাগজপত্র লাগবে? 

লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য লাগবে - 

  • লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য পূরণকৃত ফর্ম (অনলাইন থেকে ডাউনলোড এবং প্রিন্ট করা)। 
  • সদ্য তোলা এক কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি ও তিন কপি স্ট্যাম্প সাইজ ছবি। 
  • শারীরিক সুস্থতার মেডিকেল সার্টিফিকেট (অবশ্যই রেজিস্টার্ড ডাক্তার কর্তৃক প্রদত্ত হতে হবে)।
  • জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদের সত্যায়িত ফটোকপি।
  • স্থায়ী/অস্থায়ী বাসস্থানের এক মাসের বিদ্যুৎ বিলের বা অন্য কোন ইউটিলিটি বিলের ফটোকপি।
  • বিআরটিএ-র নির্ধারিত ব্যাংকে লাইসেন্সের নির্ধারিত ফি পরিশোধের রশিদ। 

স্মার্টকার্ড (পেশাদার ও অপেশাদার) ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য লাগবে - 

  • স্মার্টকার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য পূরণকৃত ফর্ম।
  • আবেদনকারীর সদ্য তোলা এক কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি।
  • শারীরিক সুস্থতার মেডিকেল সার্টিফিকেট।
  • জাতীয় পরিচয়পত্র/জন্মনিবন্ধন সনদ/পাসপোর্টের সত্যায়িত ফটোকপি।
  • লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্সের মূল কপি ও ফটোকপি।
  • পুলিশি তদন্ত প্রতিবেদন (যদি আবেদনকারী পেশাদার লাইসেন্সের জন্য আবেদন করে থাকেন, অপেশাদারের জন্য লাগবেনা)। 
  • বিআরটিএ-র নির্ধারিত ব্যাংকে লাইসেন্সের নির্ধারিত ফি পরিশোধের রশিদ। 

ইন্টারন্যাশনাল ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য লাগবে - 

  • ইন্টারন্যাশনাল ড্রাইভিং লাইসেন্সের পূরণকৃত ফর্ম।
  • স্মার্টকার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সের সত্যায়িত ফটোকপি।
  • আবেদনকারীর সদ্য তোলা এক কপি পাসপোর্ট সাইজ এবং চার কপি স্ট্যাম্প সাইজ ছবি।
  • আবেদনকারীর পাসপোর্টের ১ থেকে ৪ নং পাতার ফটোকপি।


পেশাদার/অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের জন্য লাগবে - 

  • ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের পূরণকৃত ফর্ম।
  • আবেদনকারীর সদ্য তোলা এক কপি পাসপোর্ট সাইজ এবং এক কপি স্ট্যাম্প সাইজ ছবি।
  • শারীরিক সুস্থতার মেডিকেল সার্টিফিকেট।
  • জাতীয় পরিচয়পত্র/জন্মনিবন্ধন সনদ/পাসপোর্টের সত্যায়িত ফটোকপি।
  • আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ।
  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (শুধুমাত্র পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের জন্য)।
  • বিআরটিএ-র নির্ধারিত ব্যাংকে লাইসেন্স নবায়নের নির্ধারিত ফি পরিশোধের রশিদ। 

২| ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য কোথা থেকে ফর্ম সংগ্রহ করতে হবে? 

ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য ফর্ম বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বা বিআরটিএ-এর নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন। ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার পরে বামদিকের উপরের কোণায় মেনু বাটনে প্রথমে ক্লিক করবেন। এরপরে ফরম বাটনে ক্লিক করে যে ধরণের ড্রাইভিং লাইসেন্স করাতে চান সেই অনুযায়ী ফর্ম ডাউনলোড করে নিবেন। 

৩| ড্রাইভিং লাইসেন্স এর মেয়াদ কত?

প্রথমবার করা ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রে পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ থাকে ৫ বছর। আর অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ থাকে ১০ বছর। উভয় লাইসেন্সই নির্দিষ্ট সময় পরে নবায়ন করতে হয়। 

৪| ড্রাইভিং লাইসেন্স করার জন্য আনুমানিক ফি কত? 

  • লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রে ক্যাটাগরি ১ বা এক ধরণের যানবাহনের লাইসেন্সের জন্য খরচ হবে ৩৪৫ টাকা, ক্যাটাগরি ২ বা গাড়ি এবং মোটরসাইকেল উভয়ের লাইসেন্সের জন্য ৫১৮ টাকা লাগবে। 
  • স্মার্টকার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রে পেশাদারের জন্য লাগবে ১৬৭৯ টাকা (৫ বছরের নবায়ন ফি সহ) এবং অপেশাদারের জন্য লাগবে ২৫৪২ টাকা (১০ বছরের নবায়ন ফি সহ)।
  • ইন্টারন্যাশনাল ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রে আবেদনকারী যদি ১২ কর্মদিবসের মধ্যে লাইসেন্স পেতে চান তাহলে তাকে খরচ করতে হবে ২৫০০ টাকা। আর ৫ কর্মদিবসের মধ্যে লাইসেন্স পেতে চাইলে ৩৫০০ টাকা খরচ করতে হবে। 
  • পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করার ক্ষেত্রে আবেদনকারী যদি মেয়াদোত্তীর্ণের ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন করেন, তাহলে তাকে খরচ করতে হবে ১৫৬৫ টাকা। আর অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রে মেয়াদোত্তীর্ণের ১৫ দিনের মধ্যে নবায়ন আবেদন করলে ২৪২৭ টাকা লাগবে। পেশাদার ও অপেশাদার উভয় ক্ষেত্রেই আবেদনকারী যদি মেয়াদোত্তীর্ণের ১৫ দিন বা তারও পরে নবায়ন আবেদন করেন তাহলে তাকে প্রতি বছর ২৩০ টাকা অতিরিক্ত প্রদান করতে হবে জরিমানা হিসেবে। 

শেষ কথা 

এই আর্টিকেলে আমরা ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করার নিয়ম, লাইসেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং খরচ সম্পর্কে যথাসাধ্য বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। আশা করছি আর্টিকেলটি পড়ে আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স সম্পর্কিত আর কোন প্রশ্ন বা কনফিউশন থাকবেনা। তবুও যদি প্রশ্ন থাকে তাহলে আমাদের কমেন্টবক্সে জানাবেন, আমরা উত্তর দেয়ার চেষ্টা করব।

ধন্যবাদ। 


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url