অশ্লীল ভিডিও দেখে তারা পড়ুন – ইসলামিক শিক্ষামূলক গল্প

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। বর্তমানে ইন্টারনেটের দুনিয়ায় যুবক-যুবতীরা কতইনা অশ্লীল দৃশ্য দেখে থাকে। প্রযুক্তি এখন এত উন্নত যে, যেকেউ চাইলেই খুব সহজে পর্ন ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারবে। সেখানে থাকা খারাপ দৃশ্য গুলো দেখতে পারবে। এই জিনিসগুলো এখন এত সহজলভ্য হয়ে গেছে যে, ছোট বয়সে অনেক ছেলে-মেয়েরা এই ধরনের ভিডিও অনায়াসে দেখতে পারছে। তবে একবারও কেউ ভাবার চেষ্টা করেনা যে এর পরিণতি কি। তাই, আজকে আমি আপনাদেরকে একটি ইসলামিক শিক্ষামূলক গল্প শোনাবো। এই গল্পটি একজন সাহাবীর। গল্পটি সম্পূর্ণ পড়ার অনুরোধ থাকবে।

রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একজন প্রিয় সাহাবী সালাবা (রা:)। তার বয়স মাত্র 16 বছর। মদিনার পথ ধরে চলার সময় একটি বাড়ির দরজার ভেতর দৃষ্টি গেল। তিনি দেখলেন একজন সুন্দরী নারী গোসলরত ছিল। এবং ঝড়-বাতাসে পর্দা সরে গিয়েছিল। সঙ্গে সঙ্গে সালাবা (রাঃ) দৃষ্টি নামিয়ে নিলেন।

কারণ তিনি এমন কিছু দৃশ্য দেখেছেন যা কখনো ইসলামের দৃষ্টিতে জায়েজ নয়। কিন্তু তার মন ছুয়ে গেল এক গভীর অপরাধবোধে। তিনি নিজেকে মুনাফিক ভাবতে শুরু করলেন। তিনি ভাবলেন নাজানি আল্লাহ তাআলা আমার এমন অশ্লীল আচরণের কথা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রকাশ করে দেয়। রসূল (সাঃ) এর সাথে মুখোমুখি হবার লজ্জায় তিনি মদীনা থেকে পালিয়ে গেলেন।

অনেকদিন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন স্বপ্নে দেখলেন তার একজন সাহাবী কান্না করছে। আল্লাহর রাসূল স্বপ্নে দেখতে পেলেন ফেরেশতারা বলছে, ইয়া রসুলাল্লাহ আপনি আল্লাহর প্রিয় বান্দার দিকে একটু অগ্রসর হন। সকালে উঠে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম সকল সাহাবীদেরকে সালাবার কথা জিজ্ঞেস করতে থাকলেন। কিন্তু কেউ তার কোন খবর দিতে পারেনি রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম এর দুশ্চিন্তা বাড়তে থাকে। তিনি কিছু সাহাবিকে পাঠালেন সালাবার খোঁজে। কিন্তু মদিনায় তন্নতন্ন করে খুঁজেও তার কোন খোঁজ পেলেন না।

পরে মদিনার সীমান্তবর্তী একটি পার্বত্য স্থানে কিছু বেদুঈনের সাথে দেখা হলো। সেখানে তাদের জিজ্ঞেস করার পরেও তারা কিছুই বলতে পারছিল না। অতঃপর তাদের মধ্য থেকে একজন বলল, আচ্ছা তোমরা কি ক্রন্দনরত এক বালকের সন্ধানে এসেছো?

এই প্রশ্নে সাহাবিরা আগ্রহী হয় এবং তার বর্ণনা জানতে চায়। তারা বলল প্রতিদিন মাগরিবের সময় এখানে এক ছেলে আসে। সে দেখতে লম্বা কিন্তু খুবই দুর্বল। কাঁদতে কাঁদতে তার চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে গেছে। আমরা তাকে বলেছিলাম তুমি এত কান্না করছো কেন? তুমি তো কাঁদতে কাঁদতে মরেই যাবে! আমাদের তাকে দেখে খুব মায়া হয়। আমরা তাকে একবাটি দুধ দেই খাবার জন্য। সে দুধের বাড়িতে চুমক দেওয়ার সময় তার চোখের পানিতে দুধের বাটি ভরে যাচ্ছিল। পানি এবং দুধ মিশে একাকার। কিন্তু এইদিকে তার কোনো হুশ নেই।

আরো পড়ুনঃ ইসলামে দ্রুত ধনী হওয়ার সহজ উপায়

৪০ দিন যাবত ছেলেটি এখানে আছে। আমাদের কেন জানি মনে হয়, তার কান্নায় গুহা সহ পুরো পাহাড় কেঁপে উঠছে। একবার কাঁদতে কাঁদতে নেমে আসে। আবার কাঁদতে কাঁদতে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে করতেই সে উপরে চলে যায়।  সাহাবীরা বুঝতে পারলেন এ সালাবা ছাড়া আর কেউ নয়। এরপর সাহাবীরা পর্বতের নিচে অপেক্ষা করতে থাকে যাতে সালাবা আসামাত্রই তার সাথে কথা বলতে পারে।  একসময় কাঁদতে কাঁদতে রোগাক্রান্ত সালাবা নিচে নেমে আসে। ক্রন্দনরত সালমাকে দেখে তাদের অন্তরাত্মা কেঁপে উঠল। বলল, “আমাদের সাথে চলো সালাবা। সালাবা তাদের দেখে জড়িয়ে ধরে বলল- “আমার মুনাফিক হওয়ার ব্যাপারে কি কোনো আয়াত নাযিল হয়েছে?”

এই প্রশ্নের উত্তরের সাহাবীরা বলল, না সালাবা! তোমার মুনাফিক হওয়ার ব্যাপারে কেন কোরআনের আয়াত নাজিল হবে? তুমি তো আল্লাহর প্রিয় বান্দা। সাথে সাথেই সালাবা নিজেই নিজের গালে চড় মারতে থাকল এবং বলল আমি কখনোই মুখ দেখাতে পারবো না। হযরত ওমর (রাঃ) তাকে জোর করে সেখান থেকে নিয়ে আসে। আল্লাহর রাসূল (সাঃ) এর দরবারে দাঁড়িয়ে সালাবা আবারো প্রশ্ন করল, ” আল্লাহ কি আমাকে মুনাফিকদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন “। 

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বললেন, না সালাবা! আল্লাহ কেন তোমাকে মুনাফিকদের অন্তর্ভুক্ত করবেন? তখন সালাবা কাঁদতে কাঁদতে বেহুশ হয়ে আল্লাহর রাসূলকে জড়িয়ে ধরে। রসূল (সাঃ) দুর্বল সালাবার পরিশ্রান্ত মাথাটা নিজের কোলের উপরে এবং তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, “আমি সব বুঝতে পেরেছি”।  আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাইতে থাকো। নিঃসন্দেহে তোমার ক্ষমা তোমাকে অনেক উঁচু অবস্থানে নিয়ে এসেছে। সালাবা তারপরে বলল, “হে আল্লাহর রাসূল এই মুহূর্তে আমার কেন যেন মনে হচ্ছে আমার ঘাড় আর মাথার মাঝখানে পিপড়া হেঁটে যাচ্ছে। রসূল বললেন, ” সালাবা ওইটা মৃত্যুর ফেরেশতা। তোমার সময় এসে পড়েছে আল্লাহর তরফ থেকে তোমার জন্য ডাক এসেছে। তুমি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ পড়ো। উচ্চস্বরে কালেমায়ে শাহাদত পড়তে থাকো। “

সালাবা কালিমায়ে শাহাদাত বলতে থাকলেন। এভাবে তার শরীর থেকে আহসানের সাথে রুহ বের হয়ে গেল। মহানবী (সাঃ) সালাবাকে নিজ হাতে গোসল করিয়ে জানাজার পর কবরে নিয়ে যাচ্ছিল। আরো অনেক সাহাবা তাকে বহন করে নিয়ে যাচ্ছিলেন। মহানবী (সাঃ) খুব সতর্কভাবে পা টিপে টিপে অনেক সাবধানী এগিয়ে যাচ্ছিলেন। উমর (রাঃ) অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে আপনি জনভিড়ের মাঝখান দিয়ে কোনোভাবেই হেঁটে চলছেন। রাস্তাটা একেবারেই ফাঁকা আছে। আপনি আরাম করে চলেন।

রসূল (সাঃ) বললেন, ” হে উমর!! আমাকে অনেক সাবধানে চলতে হচ্ছে। সমস্ত রাস্তা আসমানী রহমতের ফেরেশতা দ্বারা ভরে গেছে। সালাবার জন্য এত রহমতের ফেরেশতা এসেছে যে, আমি ঠিকমতন হাঁটার জায়গা পাচ্ছি না। সুবহানআল্লাহ!!

এই সেই সালাবা যে ভুলক্রমে একটি অশ্লীল দৃশ্য দেখার জন্য প্রায়শ্চিত্ত  করেছেন। আর সেই গুনাহর তওবার বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা তাকে  উঁচু মাকাম দিয়েছেন।

যুবক ভাইয়েরা,  আজকে প্রতিদিন প্রতিনিয়ত কত অশ্লীল দৃশ্য ইন্টারনেটে ঘোরাফেরা করছে। যা অশ্লীলতার চূড়ান্ত।  একবারও কি ভেবে দেখেছেন, এই দৃশ্যগুলো  আপনাদের চোখের যিনার কারণ।  এবং এর জন্য আপনাকে জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে হবে।  তাই আসুন আমরা সালাবার জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে উত্তম চরিত্র গঠন করি। আজ থেকে সবাই তওবা করি যে, আর কোন দিন অশ্লীল দৃশ্য দেখব না।

Click to rate this post!
[Total: 2 Average: 3]

Leave a Comment